যকৃত প্রদাহ

 

👉যকৃৎ প্রদাহ বা হেপাটাইটিস

কোন কারণে যকৃতের তরুণ প্রদাহ এবং সেজন্য ক্রিয়াগত কোন বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে তাকে যকৃৎ প্রদাহ বলে ।
Dr . P. C. Das বলেন – “ It is a disease characterized by anorexia, fever, jaundice and hapatomegaly caused by virus ” এই রোগে আক্রান্ত হলে যকৃৎ তার নিজস্ব ক্রিয়া শক্তি হারিয়ে ফেলে এবং নানাবিধ রোগ উপসর্গ দেখা দেয় ।

👉কারণ

ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, নিউমোনিয়া, কালাজ্বর, ইনফ্লুয়েঞ্জা, প্লেগ, সিফিলিস ইত্যাদি রোগের সংক্রমণ ।
বিকোলাই, যকৃতের অ্যামোবায়োসিস প্রভৃতি রোগ ।
পিত্ত নালীতে অবরুদ্ধ অবস্থার সৃষ্টি । পিত্ত পাথুরী, জীবাণু সংক্রমণ, পিত্তনালীর সংকোচন । পিত্তনালী, যকৃৎ, পাকস্থলী বা কিডনীতে অর্বুদ সৃষ্টি । ইহাকে অবরোধ জনিত যকৃৎ প্রদাহ Obstructive Hepatitis বলে ।
সুরাপান, ক্লোরোফর্ম, কার্বনটেট্রাক্লোরাইড, আর্সেনিক, স্যাণ্টুনাইন প্রভৃতির বিষক্রিয়া এবং কতিপয় ঔষধের প্রতিক্রিয়াজনিত কারণ ।
লিভারের সিরোসিস । এছাড়া ভাইরাস সংক্রান্ত যকৃৎ প্রদাহ সাধারণত তিনটি কারণে হতে পারে যথা – 1. Virua A . 2. Virus B . 3. Virus A এবং B বহির্ভূত ।
Virua A: এই জাতীয় ভাইরাস রোগীর মলে পাওয়া যায় । ইহারা প্রধানত খাদ্য ও পানীয় মাধ্যমে অন্ননালীর সাহায্যে শরীরে সংক্রমিত হয় ।
Virus B: এই জাতীয় ভাইরাস রোগীর রক্তে পাওয়া যায় এবং ইহারা Hepatitis Associated Antigen –
HAA নামে অভিহিত ।
Virus A এবং B বহির্ভূত: এই জাতীয় ভাইরাস সাধারণত জলের মাধ্যমে সংক্রমিত হয় । মাঝে মাঝে কোন বিশেষ অঞ্চলে এই জাতীয় ভাইরাস রোগ বিস্তার করে ।
লক্ষণানুসারে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচন পদ্ধতি:
ঔষধ ও শক্তি > চেলিডোনিয়াম মেজাজ – Q : যকৃতের বিবৃদ্ধি । প্রস্রাব হলুদ । মুখে তিক্ত স্বাদ । গল ব্লাডার বা যকৃতে অবরোধজনিত জণ্ডিস । পিত্ত পাথুরী, চোখ মুখ গায়ের চামড়া হলুদ । মল ছাই অথবা গন্ধকের ন্যায় বর্ণ, জিহ্বায় তিক্ত স্বাদ । ডান স্ক্যাপুলার নীচে বেদনা, ক্ষুধাহীনতা, বমি ভাব ।

ঔষধ ও শক্তি > আর্সেনিক এল্বাম – 6 / 30 : শোক, দুঃখ, ভোঁ, মদ, তামাক পান হেতু । বিষক্রিয়া হেতু, অতিরিক্ত ঔষধ সেবন হেতু । উদরে জ্বালাময় বেদনা, গরমে উপশম । পিপাসা বেশী । বারে বারে অল্প জল পান । যকৃৎ ও প্লীহা বৃদ্ধি, উদরে শোথ । দুর্বলতা, অস্থিরতা, রাত্রে বৃদ্ধি ।

ঔষধ ও শক্তি > লাইকোপোডিয়াম – 6 / 30 : ভয়, ক্রোধ, উৎকণ্ঠা, জ্বর, মদ্যপান হেতু । যকৃৎ অঞ্চলে অনবরত বেদনা, খিল ধরা । বেদনা ডানদিক হতে বামদিকে সম্প্রসারণ । যকৃৎ শক্ত ও কঠিন । আহারের পর পেট ফুলে উঠে । বায়ু সঞ্চয় । দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য ও মাঝে মাঝে উদরাময়, উদর শোথ, বার বার মুত্র ত্যাগ ।

ঔষধ ও শক্তি > ল্যাকেসিস – 6 / 30 : অত্যন্ত বাচালতা, প্রাতকালে বিমর্ষ । যে কোন খাদ্যে যন্ত্রণা হয় । ভীষণ ক্ষুধা, ক্ষুধা সহ্য করতে পারেনা । পাকস্থলীতে খামচানো ব্যথা । আহারে উপশম কিন্তু পরক্ষণেই বেদনা । ঢোক গিলতে গেলে লাগে কিন্তু কঠিনদ্রব্যে লাগে না ।

ঔষধ ও শক্তি > মার্কুরিয়াস ভাইঃ – 3 / 6 : সিফিলিস, গনোরিয়ার ইতিহাস । অ্যামিবা ষ্ট্রেপটো কক্কাই সংক্রমণ । যকৃৎ শক্ত, বৃদ্ধি ও বেদনা, স্থুল বেদনা । নড়াচড়া, রাত্রে বেশী, ডান পাশে শুতে পারে না । জণ্ডিস, স্রাবে দুর্গন্ধ ।

ঔষধ ও শক্তি > ল্যাপটাণড্রা – Q : যকৃতের কণকণে ব্যথা, পিত্তকোষ বেদনা । জিহ্বা হলুদ বর্ণের ময়লার প্রলেপ । কালচে দুর্গন্ধময় মল, জণ্ডিস । আলকাতরার মত কালো মল, নাভিদেসে বেদনা ।

ঔষধ ও শক্তি > চায়না – 6 / 30 : অবসাদকর স্রাব, জীবনীশক্তির ক্ষয় । প্লীহা ও যকৃৎ স্ফীত, বর্ধিত । জণ্ডিস, তলপেটে বায়ু জমে । পেটের ডান দিকে বেদনা, ফেনাময় অজীর্ণ মল ।

ঔষধ ও শক্তি > নেট্রাম সালফ – 6 / 30 : গনোরিয়া চাপা দেয়া, স্যাঁতসেঁতে বসবাস । ম্যালেরিয়া, নিউমোনিয়া ভোগের পর যকৃৎ প্রদাহ, জণ্ডিস, পিত্ত বমি । পেটে ভয়ানক বেদনা, সুচ ফুটানো বেদনা । চাপ দিয়ে শুতে পারে না । প্রাতকালে উদরাময় ।

ঔষধ ও শক্তি > থেরিডিয়ন – 6 / 30 : T. B. যুক্ত ব্যক্তি, মাথা ঘোরে । মাথায় যন্ত্রণা, সামান্য নড়াচড়ায় বমি । বাম পার্শ্বের প্লীহা স্থানে হুল ফুটানো ব্যথা, মাথায় অসহ্য বেদনা, নড়াচড়ায় বৃদ্ধি ।

বায়োকেমিক ঔষধ
ঔষধ ও শক্তি > ফেরাম ফস – 3x / 6x : যকৃৎ পীড়ায় খুব উপকারী । প্রথমাবস্থায় যখন জ্বর, লিভার বেদনা এবং অস্থিরতার ভাব বর্তমান থাকে তখন প্রযোজ্য । রোগের প্রকোপকালে ২/১ ঘণ্টা অন্তর সেবন করলে উপশম বোধ হয় ।

ঔষধ ও শক্তি > ক্যালি মিউর – 6x: লিভারের কাজ বিঘ্নিত । জিহ্বা সাদা ময়লাযুক্ত, মলের রঙ সাদা । লিভার অঞ্চলে এবং ডানদিকে বেদনাবোধ । জণ্ডিস । পিত্তের দোষ এবং কোষ্ঠকাঠিন্য । শীত শীত ভাব সহ কামলা রোগের সৃষ্টি।

ঔষধ ও শক্তি > নেট্রাম সালফ – 6x: ক্রোধ হতে জণ্ডিস । মল সবুজাভ ও পিত্তযুক্ত । চোখ ও গায়ের চামড়া হলুদ । লিভার আড়ষ্টভাব, প্রচণ্ড বেদনা । গলব্লাডার অঞ্চলে এত বেদনা যে রোগী অস্থির হয়ে পড়ে ।

জণ্ডিস উপসর্গ ( Complication ):
যকৃৎ প্রদাহ যদি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় তবে নানাবিধ জটিল উপসর্গ দেখা দিতে পারে যেমন লিভার ফোঁড়া ( Liver Abcess ) হতে পারে । অনেক সময় লিভার ধীরে ধীরে ছিবড়ার মত হয়ে যায়, উহাকে বলে Cirrhosis of liver । অনেক সময় Liver Cancer হতে পারে ।

রোগ নির্ণয় ( Diagnosis ):
পিত্ত বমি, লিভার ব্যথা, বামস্কন্ধে ব্যথা, বুকে ব্যথা ইত্যাদি লক্ষণ দেখে এই রোগ নির্ণয় করা যায় । এছাড়া X-Ray করলে লিভারের স্বাভাবিক ভাবটি ধরা পড়ে । Ultra sonography of liver, gall biadder, pancreas প্রয়োজন ।

পথ্য ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা ( Diet and Management ):
যেহেতু লিভার মানবদেহের পরিপাক, রক্ত শোধন, খাদ্য সঞ্চয় প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করতে বিশেষভাবে সহায়তা করে সেজন্য এই যন্ত্রটি যাতে সুস্থ থাকে এবং সবল থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিৎ । লিভারের পক্ষে ক্ষতিকর অথবা লিভারের কাজে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এমন কোন কাজ করা উচিৎ নয় । ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, নিউমোনিয়া, বিকোলাই প্রভৃতি রোগ লিভারের যথেষ্ট ক্ষতি করে । অতএব ইহার যথার্থ চিকিৎসার প্রয়োজন । অতিরিক্ত বা অনিয়মিত পানাহার, গুরুপাক দ্রব্য আহার, উত্তেজক বা উগ্র দ্রব্য পান, অতিরিক্ত শারীরিক এবং মানসিক পরিশ্রম পরিহার করা উচিৎ । সাধারণ স্বাস্থ্য সম্মত নিয়মগুলো পালন করা উচিৎ । যথেচ্ছ ঔষধ গ্রহণের ফলে আজকাল লিভারের দোষ অতি ব্যাপক ভাবে দেখা দিয়েছে । সংক্রমণ, যকৃৎ প্রদাহের ক্ষেত্রে আমাদের খদ্য পানীয় সম্বন্ধে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে । ক্লোরিন হেপাটাইটিসের ভাইরাস ধ্বংস করতে পারে । এইজন্য ক্লোরিন মিশিয়ে পরিশোধন করে নেয়া উচিৎ । রক্ত প্রদানের ক্ষেত্রে রক্ত ভাইরাস যুক্ত কিনা সে বিষয়ে সুনিশ্চিত হতে হবে । সংক্রামক যকৃৎ প্রদাহের ক্ষেত্রে রোগীর পক্ষে পূর্ণ বিশ্রাম দরকার । যতদিন পর্যন্ত রোগী সুস্থ হয়ে না উঠে ততদিন পর্যন্ত বিশ্রামের প্রয়োজন । লঘু ও পুষ্টিকর খাদ্য দিতে হবে । খাদ্যে কোন চর্বি জাতীয় পদার্থ থাকবে না । রোগীর জন্য গ্লুকোজ পানীয় এবং প্রোটিনযুক্ত খাদ্যের ব্যবস্থা একান্ত প্রয়োজন । খাদ্য ও পানীয়ের ক্ষেত্রে রোগীর ইচ্ছা এবং অনিচ্ছা বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা প্রয়োজন । রোগীর সেবাকারীদের স্বাস্থ্যসম্মত বিধিগুলো কঠোর ভাবে মেনে চলতে হবে । রোগীর মলমুত্র অপসারণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ মনে করে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে । রোগী যদি দীর্ঘদিন জণ্ডিস রোগে আক্রান্ত হয় তৎসহ বমি ও বমিভাব, ক্ষুধাহীনতা জ্বর, লিভার বেদনা, চর্ম উদ্ভেদ ইত্যাদি থাকে তবে বুঝতে হবে অবস্থা অবনতির দিকে যাচ্ছে । আজকাল অত্যাধুনিক বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়েছে বটে কিন্তু সাধারণ লোকের পক্ষে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানো সম্ভব নয় । অতএব খাদ্য, পানীয়, বিশ্রাম ইত্যাদি বিষয়গুলোর প্রতি যত্নবান হতে হবে যাতে রোগ না হয় ।

#_ইচ্ছে_করলে_আপনিও_আমাদের_থেকে_জার্মানি_ঔষধ_দ্বারা_চিকিৎসা_সেবা_ও_পরামর্শ__নিতে__পারবেন।

👉আমাদের চিকিৎসা সেবা সারা দেশে পার্সেলে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ঔষধ পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

👉বিস্তারিত জানতে যােগাযােগ করুন।

ডাঃ মােঃ আরিফুল ইসলাম আদনান সামি হোমিওপ্যাথি
ডি , এইচ , এম , এস ;
বি , এইচ , বি ( ঢাকা )
গভঃরেেজি  হােমিওপ্যাথ )
১০বছরের প্রাকটিক্যাল অভিজ্ঞ ( হােমিওপ্যাথ )
পুরুষ , গাইনী ও শিশুরােগে অভিজ্ঞ ( হােমিওপ্যাথ )
নতুন ও পুরাতন সহ সকল জটিল

ডাঃরেজমিনা আক্তার রাখী
ডি,এইচ,এম,এস; বি,এইচ,বি( ঢাকা)

রোো
চন্দ্ন্ক্ষ্মীীী্ক্ষ্মীী্ক্ষ্মীীী্ক্ষ্মী

 

01721418696[youtube_channel resource= amarhomoeo

রোগী দেখার সময়ঃ
সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১টা;
বিকাল ৪ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত।

👉👉👉 ভালাে লাগলে পেইজে লাইক দিবেন , কমেন্ট করে মতামত জানাবেন ও শেয়ার করে আাপনার বন্ধুদের জানার সুযোগ করে দিন ।

👉 পরবর্তী আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিয়ে একটিভ থাকুন সবার আগে পেয়ে যাবেন পরবর্তী পোষ্ট

🏴🚩🏴 পেইজ লিংক👉👉👉
👇
👇
👉 https://www.facebook.com/amarhomoeo

বিঃ দ্রঃ :- শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসকদের সুবিধার্থে ঔষুধের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

👉ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত কোনো ঔষুধ সেবন করবেন না।

👉হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসাপদ্ধতি লক্ষণ সংগ্রহের মাধ্যমে সঠিক ঔষধ নির্ণয় করে স্বদৃশ বিধানমতে চিকিৎসা করা উত্তম পন্থা।

👉 হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিন সুস্থথাকুন।

About Amar Homoeo 92 Articles
ডা আরিফুল ইসলাম আদনান সামি হোমিওপ্যাথি ডা রেজমিনা আক্তার রাখী হোমিওপ্যাথি। চেম্বার, সৈয়দ হোমিও হল ফরেস্ট রোড আলিয়া মাদ্রাসা মার্কেট শেরপুর বগুড়া 01721418696 01934981471 01797152527 অনলাইনে চিকিৎসা সেবা নিতে ডা সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন। অথবা সরাসরি চেম্বারে আসুন। নিজে সুস্থ থাকি অপরকে সুস্থ থাকি।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*